LOADING

আদিবাসী সাঁওতাল সমাজের ধর্মীয় সম্মেলন অনুষ্টিত হল মালদা শহরে।

pbams October 2, 2026

Spread the love

সাঁওতাল সমাজের একটি বড় অংশ তাদের ধর্ম হিসেবে “সারি ধরম” পালন করেন। “সারি ধরম” প্রচার প্রসার করার লক্ষ্যে গড়ে উঠেছে সারা ভারত সারি ধরম সংঘ বা সাঁওতালি ভাষায় “ভারত জাকাত সারি ধরম বাইসি”। এই সংগঠন প্রতি বছর বার্ষিক সারি ধরম সম্মেলনের আয়োজন করে।

গত ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ (২৭/০৯/২০২৬) মালদা শহরে অনুষ্ঠিত হল ভারত জাকাত সারি ধরম বাইসির ১৮ তম রাজ্যে সম্মেলন ও সারি ধরম সম্মেলন। এই সম্মেলনে সারা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে সারি ধরম সমর্থকেরা উপস্থিত হয়েছিলেন।

এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসাবে ছিলেন ভারত জাকাত সারিধরম বাইসির সারিধরম গুরুবাবা মাননীয় সমায় কিস্কু মহাশয়। এছড়াও উপস্থিত ছিলেন আসাম রাজ্য থেকে আগত ড্যানিয়েল হাঁসদা মহাশয় (আসাম রাজ্যের জাহের সাগুন বাইসির প্রেসিডেন্ট), ঝাড়খন্ড রাজ্যে থেকে সচিদানন্দ সরেন মহাশয়, বর্ধমান মেডিকেল কলেজের প্রফেসর ডক্টর সুশীল মুর্মু মহাশয়, সাহিত্যিক দিলিপ কিস্কু মহাশয়, বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী লাংতিতি কিস্কু (কলকাতা দুরদর্শন আর্টিস্ট) এবং ভারত জাকাত সারি ধরম  বাইসির জেলা প্রেসিডেন্ট গন – গুপি মুরমু (মালদা জেলা প্রেসিডেন্ট), বাঁকুড়া জেলা প্রেসিডেন্ট, রামদাস কিষ্কু (হুগলি জেলা প্রেসিডেন্ট), সনাতন হাঁসদা (বর্ধমান জেলা প্রেসিডেন্ট), গোপাল মুর্মূ (উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রেসিডেন্ট), নিলয় মুর্মু (মুর্শিদাবাদ জেলা প্রেসিডেন্ট) এবং ভারত জাকাত সারি ধরম বাইসির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোপাল হাসদা মহাশয়।

এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হলো মালদা জেলার ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণ বিএড কলেজ তাজপুর. হাবিবপুর. মালদা. পশ্চিমবঙ্গে। এই সম্মেলনটিতে সাঁওতাল আদিবাসীদের সারি ধরম এর ধর্মীয়গ্রন্থ “জমসিম বিন্তী”র বিশেষ আলোচনা সভা,  সাঁওতাল জাতির মানুষজন যাতে নিজের সংস্কৃতি কালচারের মধ্যে থাকে অন্য কোন ধর্মে যাতে না ধর্মান্তরিত হয়, প্রতি ১০ বছর অন্তর যে জনগণনা বা সেন্সাস হয় সেই সেন্সসে  সাঁওতাল জাতি যেন তাদের ধর্মের কলামে #সারিধরম লিখে এবং তাদের ধর্মগ্রন্থ #জমসিম_বিন্তি লেখে তার ওপর বিশেষ আলোচনা হয়। সাঁওতাল আদিবাসীরা এই দেশের আদিমতম অধিবাসী অথচ দুঃখের বিষয় এই জাতির কোন ধর্মকোড এখনো পর্যন্ত স্বীকৃতি ভারত সরকার দেয় নি, যদিও সাঁওতালি ভাষা ২০০৩ সালে অষ্টম তপশিলি অন্তর্ভুক্ত হয় তারপর পরেও কোন সাঁওতালি শিক্ষা বোর্ড গঠন হয়নি।

সাঁওতালদের নিজস্ব ধর্ম সারি ধরম এর জন্য পৃথক ধর্মীয় কোডের জন্য জোরালো দাবী জানানোও হয় এই সম্মেলন থেকে।

এই সম্মেলনে সাঁওতাল জাতির সামাজিক নিয়মকানুন ও সংস্কৃতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাঁওতাল আদিবাসীদের নতুন বছর মাঘ মাস থেকে শুরু হয়। বছরের প্রথম মাস হচ্ছে মাঘ মাস এবং শেষ মাস হল পৌষ মাস।  ১লা মাঘ মাস থেকে শুরু সাঁওতাল জাতির নতুন বছর এবং #মাঘসিম  পূজো অর্চনার মধ্যে শুরু হয়  গ্রামের পাঁচজন পরিচালন সমিতির বিশিষ্ট প্রতিনিধি নির্বাচন হয় – মাঝি, জগমাঝি, গোডেত, নায়কে,পরানিক। এই পাঁচজন দ্বারায় আদিবাসী সাঁওতাল গ্রাম সমাজ পরিচালিত হয, এনাদের দ্বারা সাঁওতাল সমাজের সমস্ত রকমের রীতি রেওয়াজ পূজো অর্চনা হয়ে থাকে এই রীতি রেওয়াজ যাতে না ধ্বংস হয় না শেষ হয় নিজস্ব কৃষ্টি কালচারে থাকে সেই জন্য এই সারিধরম সম্মেলন।

Loading